বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কামিল পাস করেও চাকরির অপেক্ষা নয়, ফাস্টফুড ব্যবসায় সফল শারমিন আমতলীতে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার জনতা ব্যাংক পিএলসি নান্দাইল রোড বাজার শাখা স্থানান্তরের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ : ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ তাড়াইল সদর ইউনিয়নে দুঃসময়ের সুহৃদ সাথী নূরে আলম সিদ্দিকী বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম-পরিচালক মাহফুজ উল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির উদ্যোগে অতিরিক্ত ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার বদলি আদেশ গায়েব করে এক যুগ ধরে সিএফ কার্যালয়ে হিসাবরক্ষক ইউছুপ: ৯ ডিভিশন থেকে মাসোহারা ও কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

সৌদি আরব গিয়ে চাকরি না পেয়ে চিকিৎসা ও খাদ্যাভাবে এক যুবকের মৃত্যু

রংপুর ব্যুরো:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৮৮৯ বার পঠিত
সৌদি আরব গিয়ে চাকরি না পেয়ে চিকিৎসা ও খাদ্যাভাবে এক যুবকের মৃত্যু...................ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য বিদেশে গিয়ে চাকরি না পেয়ে এক করুণ পরিণতির শিকার হয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক যুবক।
উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের রসুলপুর বালুপাড়া গ্রামের সাফিউল ইসলাম নামে ওই যুবক সৌদি আরবে অনাহারে ও বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে তার পরিবারিক সূত্রে জানা যায়।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গত বছর মে মাসে স্থানীয় দালাল মিস্টারের মাধ্যমে আড়াই লক্ষ টাকা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এবং ১ লক্ষ টাকা সুদে ধার করে সৌদি আরব পাড়ি জমান সাফিউল। তার উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের আর্থিক দুর্দশা দূর করা। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক নয়, যার কারণে তিনি কোনো চাকরি পাননি।

প্রায় ১৫ মাস ধরে চাকরিহীন অবস্থায় থাকার কারণে তার কাছে টাকা শেষ যায়। চাকরি ও অর্থ না থাকায় সাফিউল ইসলামকে চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। পরিবার জানায়, তিনি দিনের পর দিন মসজিদে সামান্য খাবার সংগ্রহ করে রাস্তার ধারে বা ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটাতেন। এভাবেই দীর্ঘ ১৫ মাস অমানবিক জীবন যাপন করতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

গত ২৮ জুলাই সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের গেটে বিনা চিকিৎসা ও খাবারের অভাবে তার মৃত্যু হয়। সাফিউল ইসলামের মৃত্যুও সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে তার পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। তার বৃদ্ধ বাবা মো. জলিল শেখ এবং মা মোছা. মাহিলা বেগম বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলেন, ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ঋণ করে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের ছেলেকে হারিয়ে আমরা সর্বস্বান্ত। ছেলের মরদেহ এখন কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনবো সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছি।

এ ঘটনার জন্য স্থানীয় দালাল মিস্টারকে দায়ী করছেন গ্রামবাসী। তারা বলেন, মিস্টার নামে ওই দালাল সাফিউল ইসলাম ও তার আরেক প্রতিবেশী রনিকে একই সময়ে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। রনিও বর্তমানে সেখানে একই রকম মানবেতর জীবনযাপন করছে। দালাল মিস্টারের প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাফিউলের প্রতিবেশীরা। সাফিউল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে দালাল মিস্টার পলাতক রয়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. নেশারুল হক বলেন, সাফিউল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। সরকারি সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দালালদের মাধ্যমে বিদেশ গমনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..