রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, তদন্তের দাবি সংসদে পটুয়াখালীর কথা বলার অঙ্গীকার, মনোনয়ন তুললেন ফেরদৌসী বেগম মিলি নবাগত জেলা পরিষদ প্রশাসকের শিবগঞ্জ আগমন উপলক্ষে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াইলে সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক পদযাত্রা বোরগাঁও গ্রামে মনসামঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ণ দেবের জন্ম ভূমি তাড়াইলে মাদরাসাতুল হিকমাহ ইছাপশরের উদ্বোধন ও সবক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত তাড়াইল থানার নবাগত ওসির সঙ্গে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ আমতলী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: রেজাউল সভাপতি, সুমন সম্পাদক মোরেলগঞ্জে নদীভাঙন রোধে মানববন্ধন, জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি হাফেজ মাওলানা সাইদুল হক: একজন আলেম থেকে জননেতা হয়ে ওঠার গল্প

সমাজসেবক বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দারের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দিপংকর মন্ডল, হরিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি :
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮৪৯ বার পঠিত
সমাজসেবক বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার-----------------------------ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকার কৃতি সন্তান, সমাজসেবক ও দানবীর স্বর্গীয় বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দারের আজ ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।

স্বর্গীয় বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও ধনাঢ্য ঝিটকা পোদ্দার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহেন্দ্র চন্দ্র পোদ্দার। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পোদ্দার পরিবারের পঞ্চম বংশধর। ইছামতী নদীর তীরঘেঁষা পরিবেশে বেড়ে ওঠা নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার ছোটবেলা থেকেই ছিলেন উদ্যমী, মেধাবী ও পরোপকারী। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তাঁর দুয়ার থেকে কেউ কখনো খালি হাতে ফিরে যাননি।

জীবদ্দশায় সমাজ ও এলাকার মানুষের কল্যাণে তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। জানা যায়, ঝিটকা অঞ্চলে নিজ পৈতৃক সম্পত্তির ওপর তিনি নির্মাণ করেন একটি মহাশ্মশান ঘাট। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ঝিটকা পোদ্দার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়’, যার সরকারি করণ প্রক্রিয়াতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় ঝিটকা বাজার এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঝিটকা বাসুদেবপুর মহাশ্মশান প্রতিষ্ঠায় তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। এ মহাশ্মশান ঘাটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দীর্ঘদিন পালন করেন। এছাড়াও ঝিটকা বাজারের দুর্গা মন্দির স্থাপন, পরিচালনা এবং ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর রয়েছে বিশেষ অবদান। দীর্ঘ সময় তিনি দুর্গা মন্দিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মন্দিরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মানবদরদি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষের পাশে থেকে তিনি আর্থিক ও নানাবিধ সহযোগিতা করে গেছেন। তাঁকে অপছন্দ করেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন বলেই মনে করেন স্থানীয়রা। মানবকল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রমই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।

কর্মজীবনে বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার বি.কম পাশ করে ঝিটকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পাশাপাশি তিনি ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর কর্তব্য সম্পন্ন করেন।

পরোপকারী ও মহৎপ্রাণ এই মানুষটি মাত্র ৭০ বছর বয়সে ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন তাঁর কর্ম, অবদান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী। মৃত্যুর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ঝিটকাবাসী আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এই মহান মানুষটিকে।

স্বর্গীয় বাবু নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দারের ছেলে বিপ্লব পোদ্দার বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমার বাবা ছিলেন হরিরামপুরের সবার নয়নমণি। তিনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি। আজীবন চেষ্টা করেছেন মানুষকে সহযোগিতা করার, সমাজের কল্যাণে কাজ করার। ঝিটকা অঞ্চলসহ পুরো হরিরামপুরবাসীর জন্য তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান। ঝিটকা বাসুদেবপুর মহাশ্মশান তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন, যার সুফল আজও মানুষ ভোগ করছে। হরিরামপুরের ইতিহাসের পাতায় নিশ্চয়ই তাঁর নাম বারবার উচ্চারিত হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..