মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মোরেলগঞ্জে দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর লিঙ্গ কেটে থানায় আত্মসমর্পণ স্ত্রীর রমজানের নিয়মিত মুসল্লিদের কে পুরস্কার বিতরণ তাড়াইলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে চাল বিতরণ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ: স্থানীয় গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা নাসিক ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তানভীর রহমানের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা নাসিক ৩নং ওয়ার্ডবাসীকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিঃ সাদেকের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা লাইলাতুল কদর উপলক্ষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার দুর্বৃত্তদের হামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী আহত তাড়াইলে ‘মানবসেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

বাজারে এখনো চড়া লেবু, শসা, বেগুনের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭৭৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসে অতি প্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্য লেবু, শসা ও বেগুন। রোজাদাররা সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে এসব দিয়ে তৈরি নানারকম খেয়ে থাকেন। এ সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রোজাদারদের জিম্মি করে এসব পণ্যের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন। এসে অস্বস্তিতে পড়েন ক্রেতারা। প্রতি বছরের মতো এবারও একই কাজ করেছে সেসব ব্যবসায়ীরা। তবে সপ্তাহ পেরুতেই এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। তবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসেনি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। কমলাপুর বাজারে গিয়ে দেখা য়ায়, ৪০ থেকে ৬০ টাকায় মিলছে লেবু। অথচ রোজার শুরুর দিকে এ দাম ছিল প্রায় তিনগুণ। শুধু লেবুই নয়, শসার দামও কমেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি শসা ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। কাঁচামরিচের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় মিলেছে। মানভেদে বর্তমানে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগে ১৮০-২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রোজার শুরুতে হঠাৎ বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছিল। এখন সে দাম আস্তে আস্তে কমছে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। এ জন্য পণ্যটির দাম সেভাবে কমেনি।

এদিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাঝারি মানের এক হালি লেবু এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা রোজার আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

একইভাবে শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

রোজার শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় উঠেছিল। তবে বর্তমানে সে দাম অনেকটাই কমেছে। ভালোমানের কাঁচা মরিচ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। তবে পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।

তবে সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। যেমন প্রতি কেজি আলু ১৮-২০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, মুলা ও পেঁপে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের কয়েক ধরনের সবজি বিক্রি হয়। তবে এগুলোর দাম বেশি। যেমন প্রতি কেজি শজনে ২০০-২২০ টাকা, করলা ১৪০-১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০-১৪০ টাকা, বরবটি ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬০–১৭০ টাকায়। পাশাপাশি এক সপ্তাহে সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কমেছে। দাম কমার পর গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। প্রতি ডজনের দাম ১০০-১১০ টাকা। রোজার শুরুতে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়েছিল। সে দাম কমেছে। গরুর মাংস ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাস ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি টেংরা ৪৫০ টাকা, বেলে ২৫০ টাকা, বাইন ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, শিং ৪০০শ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

মুদি পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ছোলার দাম কমে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমে নেমেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে সয়াবিন তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে।

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে কয়েক ধরনের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। সাগর, মঞ্জুর ও ডায়মন্ড ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৮৪-৮৫ টাকায়। আগে এ দাম ছিল ৮০ টাকা। মোজাম্মেল মিনিকেট চালের দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৮৮ টাকা হয়েছে। পোলাওয়ের চালের দামও বাড়তি; কেজি ১৪০-১৫০ টাকা। এ ছাড়া ব্রি-২৮, স্বর্ণা, পাইজাম ও নাজিরশাইল চাল আগের দামে স্থিতিশীল রয়েছে।

 

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..