বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর সেন্ট্রাল রোডে রংপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলীর বাসা ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মালামাল গোপনে সরিয়ে ফেলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সমাজসেবা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত রংপুর প্রেসক্লাবের প্রশাসকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এডিএম আদালতের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
রংপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্লাবের ফাইল, অফিসের আলমারির চাবি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র অফিস থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর এসব নথিপত্র আর পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসক্লাবের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কোন অডিট সম্পাদন করতে পারছেন না প্রশাসক। ক্লাবের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন, আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ আড়াল করতেই মেরিনা লাভলী নথিপত্র সরিয়ে ফেলেছেন।
বর্তমান প্রশাসক ও রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম একাধিকবার মেরিনা লাভলীকে প্রেসক্লাবের দলিলপত্র, আলমারির চাবি ও অন্যান্য মালামাল বুঝিয়ে দিতে নোটিশ দেন। প্রথম নোটিশ পাঠানো হয় গত ৩ জুলাই ২০২৫, দ্বিতীয় নোটিশ ২৪ জুলাই ২০২৫ এবং সর্বশেষ তৃতীয় নোটিশ পাঠানো হয় ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে। তবে মেরিনা লাভলী কেবলমাত্র ক্লাবের কলাপসিবল গেটের চাবি প্রশাসকের কাছে জমা দেন, নোটিশগুলোর অন্য কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এরপর ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৮ ধারায় ৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিমল কুমার সরকারের স্বাক্ষরে সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। সেই আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এ তল্লাশি চালানো হয়।
রংপুর কোতয়ালী মেট্রোপলিটন থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, “আমার নেতৃত্বে এসআই আব্দুল্লাহসহ একটি পুলিশ দল স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রংপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলীর বাসা ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।”
তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই আব্দুল্লাহ জানান, “অভিযান চলাকালীন সময়ে তার অফিস ও বাসা থেকে প্রেসক্লাব সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র ও নথিপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এ খবর আগেই পেয়ে তিনি সেগুলো সরিয়ে ফেলেছেন।”
অন্যদিকে তল্লাশির প্রতিবাদে মেরিনা লাভলী তার বাসায় আইনজীবীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তার নিযুক্ত অ্যাডভোকেট জোবায়দুল ইসলাম বুলেট অভিযোগ করেন, “আমার মক্কেলকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।”
এ বিষয়ে রংপুর বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এস এম জাকির হুসাইন বলেন, প্রেসক্লাবের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং নিজের অপকর্ম ঢাকতেই মেরিনা লাভলী সকল গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলাদি সরিয়ে ফেলেছেন। পরে উকিল দিয়ে সাফাই গেয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।