শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
তাড়াইলের গজেন্দ্রপুর দালানবাড়ি মাদরাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব সাইফুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ যশোরের বসুন্দিয়া ভূমি কর্মকর্তা পলাশের ‘হাদিয়া’র নামে ওপেন সিক্রেট ঘুষ বাণিজ্য: মাদ্রাসার জমি নামজারিতেও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ! ধানমন্ডিতে ১২ বছরের গৃহকর্মী শিশু রিক্তার মৃত্যু: অভিযুক্ত পাউবো প্রকৌশলী সবিবুর রহমান দম্পতির ১৫ দিনে জামিন, নেপথ্যে টাকা নাকি চাপ? এলজিইডি নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলালের শত কোটি টাকার অনিয়ম ১৫বছরের চাকরি জীবনে ৯০ লাখ টাকা বেতন পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণ সিটির আনিস, বোরহান চসিকের শাহীন, ফারজানা মুক্তা ৪ প্রকৌশলীর দেশ ত্যাগ ঠেকাতে নির্দেশ সাতক্ষীরা পৌর ভূমি অফিসের নায়েব ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠা সরকারের মাসিক হাত খরচ লাখ টাকা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আওয়ামী কমিশনার সফি উল্লাহ সফির বিশ্বস্ত হাতিয়ার উমেদার ‘আওলাদ সিন্ডিকেট’ জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার কাজিয়া সুলতানা দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

চিলাহাটি রেল দুর্নীতি: পিডি আব্দুর রহিম ও ক্যাসেল কনস্ট্রাকশনের কারসাজিতে ২৩ কোটি টাকা উধাও

রিপোর্টারের নাম
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৮৭১ বার পঠিত

২০২২-২৩ অর্থবছরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল“ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ”, সংক্ষেপে চিলাহাটি ব্রডগেজ রেল প্রকল্প। ১৪০ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তী সংশোধনীতে জুন ২০২৪ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ, অথচ কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—প্রকল্পের ওয়াশ পিট, প্ল্যাটফর্ম, ফুট ওভারব্রিজ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের বেশিরভাগই শেষ হয়নি, কিন্তু সিভিল কাজ বাবদ ৯ কোটি ৪০ লাখ এবং ওয়াশ পিটের জন্য ১৪ কোটি টাকা—মোট ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়বিধিমালা (পিপিআর) ২০০৮-এর ৩৯(১৫) ও ৩৯(১৬) ধারা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড, যার স্বত্বাধিকারী যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা কাজী নাবিল আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আব্দুর রহিমের প্রত্যক্ষ মদদে তারা কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিল তুলে নেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে পলাতক রয়েছেন।

প্রকল্প চলাকালীন সময়ে পিডি আব্দুর রহিম ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিইএন-২), পরে ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ার হন। প্রকল্পে অনিয়ম ও সমালোচনার মুখে তাকে পশ্চিম রেল থেকে পূর্ব রেল—চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও বহাল তবিয়তে প্রকল্পের অর্থে কেনা ৭৫ লাখ টাকার জাপানি মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্টস গাড়ি ব্যবহার করছেন।

যোগাযোগের চেষ্টা করলে পিডি আব্দুর রহিমকে পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন—“টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হয়নি, অর্থবছরের শেষের কারণে হিসাব খাতে রেখে পরে কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিশোধ করা হয়েছে। এখন আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জিআইবিআরের সুপারিশ অনুযায়ী পানিশমেন্ট দিয়ে বিদায় করা হবে।”

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তো আগেই বিদায় হয়ে গেছে, তাহলে কাগজে-কলমে বিদায় দিয়ে সরকারের টাকা ফেরত পাওয়ার বাস্তব কোনো সম্ভাবনা আছে কি? আর কাজ অসমাপ্ত থাকলে সেটি শেষ করবে কে?২০২৫ সালের মার্চে সরকারি রেল পরিদর্শক (GIBR) ও পশ্চিম রেলের জিএম ফরিদ আহমেদ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন—ওয়াশ পিটের রেললাইন বসানো হয়নি, সোক ওয়েলের ফিনিশিং কাজ সন্তোষজনক নয় এবং জয়েন্ট কলামে ফাটল রয়েছে। তিনি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী আর্থিক জরিমানার সুপারিশ করেন।

সূত্র বলছে, প্রকল্পে জড়িত শুধু পিডি ও ঠিকাদারই নন,রেলের অর্থ ছাড়কারী কর্তৃপক্ষ, সাইট ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও বিল অনুমোদন ও আত্মসাতে ভূমিকা রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, একজন সাইট ইঞ্জিনিয়ার ৩০ লাখ টাকার গাড়ি কিনেছেন, বিভাগীয় শহরে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন,এক অফিস সহকারী পাঁচ বিঘা জমি কিনেছেন,যা তাদের স্বাভাবিক আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা চিলাহাটি, পাকশী, সৈয়দপুর, রাজশাহী ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।

জনমনে প্রশ্ন এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায় নেবে কে? ঠিকাদার? প্রকল্প পরিচালক? নাকি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? যদি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অর্থ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই ঘটনা ভবিষ্যতের আরও বড় লুটপাটের পথ খুলে দেবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..